হাসিনা - খালেদার অভিজ্ঞতার ঝুড়ি
ড. সুলতান আহমদ , বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১১, ২০১২



হাসিনা জীবনে কোন চাকুরী বা কারো অধীনে কাজ করেননি। এমনকি সংসার চালানোর তেমন অভিজ্ঞতা আছে বলেও মনে করি না। কারন মরহুম ওয়াজেদের সঙ্গে যে সময় ঘর-সংসার করেছিলেন, তাও প্রধানতঃ বিদেশে। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের খাতায় (অবশ্য কখনই খাতায় লিখে তালিকা তৈরির অভ্যাস গড়ে উঠেনি, কারন তা হলেতো লাশের রাজনীতি করা যাবে না) একটা নাম হয়ত ছিল।
বেগম জিয়া সুন্দরী ছিলেন বিধায় অপরিনত বয়সে বিয়ে হয়েছিল। আর সামরিক কর্মর্তার বৌ হওয়ার সুবাদে বাবুর্চী থেকে শুরু করে ঘরের যাবতীয় কাজকম সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য সব সময় লোকজন থাকত এক পাঁয়ে খাড়া। তাই সংসার চালানোর ক্ষেত্রে তিনিও অভিজ্ঞতাহীন।
প্রশ্ন হল, সংসার চালানেরও অভিজ্ঞতাহীন (অন্য অভিজ্ঞতা আলোচনায় আনা অবান্তর) এ দু’জন মহিলা বিগত দু’যুগের বেশী একক ক্ষমতায় (একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি , প্রধানমন্ত্রী, সংসদীয় দলের নেতা/দলীয় সভাপতি, বিরোধী দলের নেতা) দেশ চালালেন কি ভাবে? উত্তর: শেখ মুজিব আর জেনারেল জিয়ার নামের যাদুকাঠি ব্যবহার করে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল একদল বোধ-বিবেচনাহীন, তোষামোদকারি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সাঙ্গপাঙ্গ। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর দালালি করে মালিক হয়েছে দেশে-বিদেশে অগাধ সম্পদের। আর গ্রাম থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মী বাহিনীর ছদ্মাবরনে গড়ে তুলেছে পেটুয়াবাহিনী যারা প্রয়োজনমত পেয়ে এসেছে অপরাধ হতে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা, আর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা।
গত দুই দশকের উপর দেশের জনগন গনতন্ত্র দেখেছে মাত্র ৪ টি জাতীয় নির্বাচনের দিন। নির্বাচনের পরের দিন গনতন্ত্র ‘হাইবারনেশন’ থাকে পরবর্তী নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত। এ ভাবেই চলছে গনতান্ত্রিক প্রত্রি“য়া। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পরপরই পরাজিত মহিলা শুরু করে মানি না, মানব না। তারপর দেশের উন্নয়নে মনোযোগ না দিয়ে ক্ষমতায় থাকাকলীন সময়ে জয়ী মহিলা সর্বশক্তি দিয়ে শুরু করে মানি না, মানবনাদেরকে শায়েস্তা করার কাজে। এ প্রক্রিয়া চলছে বৃত্তাকার চক্রে। প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কী দেশে কোন উন্নয়ন হয়নি? অবশ্যই হয়েছে, তাতে সরকারী অবদান প্রায় শূন্যের কোঠায়। যা কিছু হয়েছে তার সবি বেসরকারি উদ্যোগে।
এক মহিলা যখন ক্ষমতা হতে বিতাড়িত হয়, অন্যজন ক্ষমতায় বসেই আগের জন, তার মন্ত্রী ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। এ মামলাবাজিও চলে বৃত্তাকার চক্রে“।অথচ বিগত দুই দশকের বেশী সময়ে দুই পক্ষের কাউরই শাস্তি হয়নি। তাহলে সব মামলাই কী প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার রাজনৈতিক অপকৌশল, নাকি দুই মামলা-মামলা খেলা? নিজের দলের কেউ অপরাধ করলে দুই মহিলাই চোখ বন্ধ করে অন্ধের ভান করে। এর শাস্তি হিসাবে আল্লাহ যেন দু’জনকেই জীবিত অবস্থায় অন্ধ করে দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেন।
টেলিভিশনের বদৌলতে জানা যায়, হাসিনা-খালেদা হজ্জ করেছেন এবং কয়েকবার ওমরাহও করেছেন; নামাজ পড়ার ও কোরআন তেলওয়া তের ছবিও টেলিভিশনে দেখেছি। তাই দুর্নীতিসহ অন্যান্য পাপ কাজ নিজেরা না করে পরিবারের সদস্য ও অনুগত লোকদের দিয়ে করিয়ে নেন। যাতে শেষ বিচারে দিন আল্লাহ যখন এ সব পাপ কাজের জন্য তাঁদেরকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি প্রদান করবেন, তখন যেন সাফাই গাওয়া ও চ্যালেঞ্জ করা যায়, সে জন্যই এ কুট কৌশল।
দুই মহিলাই আদর্শহীন লুটপাটের রাজনীতির প্রতিযোগীতায় ক্ষমতা দখলের জন্য স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের বলি ডা. মিলন সহ অন্যদের সঙ্গে প্রতারনা করেছে, আর জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে আঁতাত করে মুক্তিযুদ্ধকে কলংকিত করেছে। খালেদা আরও এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহি গাড়ীতে চড়ার সুযোগ করে দিয়েছে দুই হায়েনাকে।
যাঁদের একটি সংসার পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই, দেশের শাসন কাজ পরিচালনায় তাঁরাইতো ঠিক করেন কাকে দিয়ে কি কাজ করাবেন। তাহলে বুঝে দেখুন সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, দেশে আজ কেন এই অরাজক, অশান্ত ও শাসন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আসলে দেশে রাজনীতির নামে যা চলছে; তা গনতন্ত্রতো নয়ই, এমনকি আওয়ামী-বিএনপির রাজনীতিও নয়, দুই মহিলার এ যুদ্ধ কোন আদর্শের জন্য নয়; শুধু হিংসা ,অহংকার আর ক্ষমতা দখলের যুদ্ধ। যাদু র দুই মরন কাঠির পরশে আর কত দিন আমরা ঘুমিয়ে থাকব? আমাদের ঘুম না ভাংলে পরবর্তী প্রজম্মকে আমরা কি উত্তর দেব? যদি আমরা এ অবস্থা হতে মুক্তি চাই, তাহলে গনতান্ত্রিক প্রতিক্রিয়ার অবস্থান থেকে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সোচ্চার হতে হবে। এর কোন বিকল্প পথ আমার জানা নেই।
জাগো বাহে জাগো!!

লেখক: কলামিষ্ট।