টোকিওতে কাহাল আর্ট গ্রুপ'র পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
সজল বড়ুয়া, টোকিও থেকে , শনিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১২


কাহাল আর্ট গ্রুপ (KAHAL- Keep Art History And Life) -জাপানে স্থায়ী ভাবে বসবাসরত বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী ও জাপানি আঁকিয়েদের সম্মিলিত উদ্যোগে গঠিত চিত্রকলা-নির্ভর একটি ব্যতিক্রমী দল।

গেল ১৬ সেপ্টেম্বর '১২, টোকিও আকাবানে বিভিও হলে, সন্ধ্যে ৭টায় পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে "কাহাল আর্ট গ্রুপ" আলোচনা সভা ও অনুপ্রেরণা-সমৃদ্ধ শিশুদের এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলো। আকর্ষনীয় ভিন্নধর্মী সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন -জাপানে নব নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে কিয়োদাই র‌্যামিট্যান্সের প্রধান নির্বাহী ইউইচিরো কিমোতো, বাংলাদেশ দূতাবাস জাপান'র পলিটিক্যাল কাউন্সেলর মাসুদুর রহমান ও জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতা কিতাজিমা আ্যমি সেদিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ছোট্ট ফুটফুটে মেয়ে জেসিয়া-বিনতে-জালাল প্রধান অতিথির হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে, তাঁকে সানন্দে স্বাগত জানায়।

পরবর্তী পর্বে শুরু হয় -আলোচনা সভা। কাহাল আর্ট গ্রুপ'র প্রধান তরুণ চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান লিপু'র উপস্থাপনায় উল্লেখিত সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন -নূরে আলম নূর আলী, মাসুদুর রহমান, ইউইচিরো কিমোতো, ছালেহ মোঃ আরিফ, বেবী রাণী কর্মকার, রেফাত আলী, মীর রেজাউল করিম রেজা, কাজী ইনসানুল হক, খন্দকার আসলাম হীরা, সলিমুল্লাহ কাজল, কিতাজিমা আ্যমি, সজল বড়ুয়া, জুয়েল আহসান কামরুল, সানাউল হক ও মোফাজ্জল হোসেন।

আলোচনা সভার এক ফাঁকে প্রবাসী শিল্পী কামরুল হাসান লিপু তাদের গ্রুপের বিগত কর্মকান্ডের কিছু উল্লেখযোগ্য আলোকচিত্র উপহার হিসেবে প্রধান অতিথির হাতে তুলে দেন।

প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন- "বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় চমৎকার শিল্প-সংস্কৃতিকে 'শক্তি' হিসেবে কাজে লাগিয়ে, প্রবাসীদের সহায়তায়, ভবিষ্যতে দূতাবাস নানা রকম গঠনমূলক কর্মকান্ড শুরু করবে।" তিনি 'জাপান-বাংলাদেশ'দু'দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আরো জোরদার করা ও প্রবাসে দ্বিতীয় প্রজন্মের পরিপূর্ণ ভাবে বেড়ে ওঠার পেছনে সকলের প্রয়োজনীয় ভূমিকার কথা সবিস্তারে উল্লেখ করেন। তা ছাড়াও, বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের স্বার্থে টোকিওর দূতাবাসের প্রত্যেক কর্মকর্তা নিরলস কাজ করে যাবে বলে, নব নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সেদিন বিশেষ ভাবে আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, সেদিন অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই নানান বিষয়ে শিশুদের আঁকা দুই শতাধীক চমৎকার চিত্রকর্ম প্রদর্শনের ব্যবস্থা হয়েছিলো। পাশাপাশি, শিশুদের উচ্ছ্বল সরব উপস্থিতি সেদিন বড়দের মনেও এনে দিয়েছিলো- অনাবিল খুশীর জোয়ার। আর তাই সৃষ্টি হয়েছিলো- আনন্দঘন এক প্রাণ-মাতানো উৎফুল্ল পরিবেশ।

আলোচনা সভার শেষাংশে কাহাল আর্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আলোচিত চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান লিপু উপস্থিত সবাইকে বিশেষ ধন্যবাদ ও পরম কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন- "গেল কয়েক বছর আমি আপনাদের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। তাই আপনাদের সবার কাছে আমি চিরঋনী। ভবিষ্যতেও সকলের সহায়তায় আমি নব উদ্যমে কাজ করে যেতে চাই।"

বড়-ছোট সবার আগ্রহে আলোকিত সেদিনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তরা হলো- আকিব হায়দার লাবিব (প্রথম), আহমেদ আতিয়া (দ্বিতীয়), জেসিয়া-বিনতে-জালাল (তৃতীয়) ও নাহিদ হায়দার লামিয়া (সান্তনা পুরস্কার)। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন- বাংলাদেশ দূতাবাস জাপান'র প্রথম সচিব (শ্রম বিভাগ) ও রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী বেবী রাণী কর্মকার।

সবশেষে বাংলাদেশের রকমারি খাবার দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়।