টেক টক: গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলি ঢাকায় হতে হবে কেন? - রেজা সেলিম,পরিচালক-আমাদের গ্রাম
প্রিয় ডটকমের সাথে ভিডিও সাক্ষাতকার , রবিবার, ডিসেম্বর ০২, ২০১২


আমি রেজা সেলিম। কাজ করি “আমাদের গ্রাম- উন্নয়নের জন্য তথ্য প্রযুক্তি” এই ইস্যুতে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের কাজ হচ্ছে খুলনা ও বাগেরহাট এলাকায়। আমি ১৯৯৭-৯৮ সালে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সিফলতলা আমার একটি গবেষণার কাজে যাই। আমার কাজের বিষয়বস্তু ছিল, গ্রামের মানুষকে যদি আমরা এখনকার নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেই তাহলে সে কিভাবে এটাকে ব্যবহার করে, এতে করে সে তার জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে কি না এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সে নিজে গ্রামে থেকে কাজ করতে পারে কি না।



সেই সময় একটা চিন্তা আমাদের মাথায় ছিল, তখন ঢাকায় প্রচুর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি তৈরি হচ্ছিল এবং গ্রাম থেকে অনেক অল্প শিক্ষিত দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা এই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে আসছিল। আমাদের একটা আগ্রহ ছিল এই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গুলি ঢাকায় হতে হবে কেন? এগুলি কি ঢাকার বাইরে বা অন্য কোথাও হতে পারে না? এমনকি এই দরিদ্র মানুষ গুলো শহরে এসে কিভাবে থাকার ব্যবস্থা, খাওয়ার ব্যবস্থা, ঘুমানোর ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা পাবে? এটা গ্রামে রেখে সম্ভব কি না?

প্রথমে আমরা একটি গবেষণার কাজে হাত দিলাম যে, গ্রামের মেয়েদেরকে প্রি-আধুনিক এবং উন্নত মানের সেলাই মেশিন দিয়ে ওরা গ্রামে বসে কাজ করতে পারে কি না এবং এতে করে তার সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় কি না বা তার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায় কি না এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী সে কাজ করতে পারে কি না? এই কাজে জাপান আমাদের সেই আমলের খুব আধুনিক সেলাই মেশিন দিয়ে সহায়তা করল।

আমরা প্রথম ১০০ সেলাই মেশিন এনে রামপাল এলাকার ১০০ মেয়েকে দিলাম এবং আমরা দেখতে চাইলাম যে এই মেশিন ব্যবহার করে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করতে পারে কি না? এই মেশিন গুলো ব্যবহার করার জন্য আমরা জাপানের একজন প্রশিক্ষক পেলাম এবং তিনি এই রামপালের সিফলতলা গ্রামে থেকে ২ বছর প্রশিক্ষণ দিলেন।

এইভাবে আমরা দেখলাম এই মেশিনের সাহায্যে তারা অনেক ভাল কাপড় তৈরি করছে যেগুলো দেশের বাইরে বিক্রয়যোগ্য।

এখান থেকে আমরা একটা ধারণা পেলাম যে, যত নতুন প্রযুক্তিই হোক না কেন সেটা গ্রামে এনে মেয়ে বা ছেলেদেরকে প্রশিক্ষণ দিলে সেটা ব্যবহার করে তারা তাদের আয়ের পথ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে।

এই ধারণা থেকেই আমরা যখন ঠিক সামনের দিকে আগাচ্ছিলাম এমন সময় ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে এই রামপাল উপজেলায় একটি সহিংসতা হয় এবং আমাদের এই সংগঠনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আমরা খুবই মর্মাহত হলাম এবং এর কারণ খুঁজে বের করতে গিয়ে দেখলাম যে, গ্রামের তরুণ সমাজ জড়িত। যদিও রাজনৈতিক শক্তি কাজ করে তারপরেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় তরুণ সমাজ। আরো দেখলাম এই তরুণদের বয়স ১৮ থেক ২২ এবং এরা এই ঘটনার সাথে গভীরভাবে জড়িত।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চিন্তা করে দেখলাম যে, এই তরুণদের সম্পৃক্ত করে কিভাবে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি? সেই চিন্তা থেকেই আমরা কম্পিউটার প্রযুক্তির কথা চিন্তা করি। অর্থাৎ এই প্রযুক্তি যদি আমরা গ্রামে নিয়ে যাই এবং এই তরুণদের যদি প্রশিক্ষণ দেই তাহলে আমরা কয়েকটা জিনিস দেখতে পাব যে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওরা ওদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে কি না? এরা সামাজিক অপশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে উন্নয়নের অনুধারা শক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হয় কি না এই প্রযুক্তি জ্ঞান নিয়ে।

এই থেকে আমরা আমাদের গ্রাম সংগঠন হতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করলাম এবং প্রথমে আমরা গ্রামের স্কুলের ল্যাবে ও পরে শহরে সম্প্রসারণ করলাম। এখান থেকে এই গ্রামের ছেলেরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ লাভ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।

এই ভিডিও এর মাধ্যমে আমি আপনাদের সামনে আমাদের গ্রাম সংগঠনটি কিভাবে গঠিত হয়েছে, আমাদের কাজ কি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি, এই সেবা আপনার কিভাবে উপকারে আসতে পারে এই সব তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এটা দেখে আপনারা যদি উপকৃত হন তাহলে আমদের এই প্রচেষ্টা কিছুটা সার্থক হবে বলে আমি মনে করি।