কদিন আগে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, বোস্টন ও ওয়াশিংটনে যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাদের অনেকেই এখন নানামাত্রায় বিপদগ্রস্ত।
আনু মুহাম্মদ , মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১২



কদিন আগে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, বোস্টন ও ওয়াশিংটনে যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাদের অনেকেই এখন নানামাত্রায় বিপদগ্রস্ত। উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েককোটি মানুষ এখন বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহণ, কাজসহ নানা অনিশ্চয়তায়। নিউইয়র্ক, নিউজার্সিতে মৃত্যু, গৃহবন্দীসহ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেশি। দৈনিক ৫০ লক্ষ মানুষ যে সাবওয়েতে চলাচল করেন সেটাও বন্ধ। স্থায়ী, নিয়মিত বেতন বা মজুরি পান তার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। অস্থায়ী, খন্ডকালীনও অনেকে। কাজ করলে পয়সা। না করলে নাই। কাজ বন্ধ থাকলে এই নিম্ন আয়ের মানুষেরাই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির শিকার হয়। বাংলাদেশের প্রবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর অন্তর্ভূক্ত। স্বাস্থ্য বীমা হীন, খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার সমস্যায় যারা আগেই ছিলেন তাদের সংকট বাড়বে। ‘পাপের’ কারণে ‘গজব’ এর কথা শুনি। বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ‘পাপী’ লোকজন ‘গজবে’ কমই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদেরই কেউ কেউ বরং কয়েক কোটি মানুষের দুর্ভোগকে পুঁজি করে দ্রুত টাকা বানানোর ধান্ধায় থাকবে। বাংলাদেশের মতোই এরকম লোকজনের জন্য ‘গজব’ আসলে আশীর্বাদ।
ওবামা - রমনি সবগুলো বিতর্কেই বেকারত্ব, ঋণগ্রস্ততা, স্বাস্থ্য সুবিধার সংকট, বৈষম্য, যুদ্ধব্যয় ইত্যাদি প্রসঙ্গ এসেছে। এসব বিতর্কেই উঠে এসেছে কিছু চিত্র, পৃথিবীর সবচাইতে ক্ষমতাশালী সম্পদশালী, দুনিয়ার অনেক অঞ্চলের সম্পদ লুন্ঠনকারী দেশের জন্য যা অবিশ্বাস্য মনে হবে। ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থানকারী এই ব্যক্তিরাই বললেন, মার্কিন দেশে এখন প্রায় ৪ কোটি মানুষ কখনো না কখনো অনাহারে থাকেন। ৪.৭ কোটি মানুষ চিকিৎসা বীমার বাইরে মানে চিকিৎসা সেবা নিতে অক্ষম। সমান কাজ হলেও নারীর জন্য মজুরি পুরুষের শতকরা ৭০ ভাগ। জিনিষপত্রের দাম বাড়তি। বেকারত্বের বোঝা বাড়ছে। সম্পদের অভাব? অনাহারী মানুষদের খাদ্য সরবরাহের জন্য ফুড স্ট্যাম্প সহ নানা ব্যবস্থা আছে। সবশেষ খবর অনুযায়ী, ২ কোটি পরিবার তার ওপর নির্ভরশীল। এরজন্য খরচ বাড়ছে, এখন বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা কমানোর চাপ আছে। পাশাপাশি এই দেশেরই ৭০০ বিলিয়ন ডলার প্রতিবছর খরচ হয় অন্যদেশ দখল, গোয়েন্দাবৃত্তি, যুদ্ধ আর গণহত্যায়। এই ব্যয়ে লাভবান হয় শতকরা ১ ভাগেরও কম জনসংখ্যার খুবই ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী, তেল অস্ত্র সহ বিভিন্ন কোম্পানি। এদের খাই পূরণ করতে গিয়ে বিশ্ব এখন স্থায়ী সন্ত্রাসের ভূমি আর যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এখন সবচাইতে বড় ঋণগ্রস্ত দেশ। যার দায় মেটাতে গিয়ে জনগণের এই হাল।