সিআইএ’র দপ্তরে ছেয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব, প্রতিক্রিয়া বাড়ছে
এইদেশ সংগ্রহ , বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১২


মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে দপ্তর স্থাপন করছে বলে খবর ফাঁস হওয়ার পর বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়েবসাইট ‘আল মানার’ জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সিআইএ’র দপ্তর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে অন্যান্য শহরেও সিআইএ’র দপ্তর স্থাপন করা হচ্ছে। সৌদি আরবে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের প্রভাব বাড়ানোর জন্য তুলনামূলক কম বয়সী রাজপুত্রদের সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই খবর ফাঁস হওয়ার পর সৌদি আরবের ইসলামপন্থী দল ‘উম্মাত’ বলেছে, এটা সৌদি রাজ পরিবারের জন্য এক মহা কলঙ্ক। সৌদি রাজ পরিবার আমেরিকার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেছে।



সৌদি আরবের অন্যান্য সংগঠনও সেদেশে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর ততপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সিআইএ সৌদি আরবের সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক দিন ধরেই কাজ করছে। এর আগে রাজার মাধ্যমে সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদে রদবদল করানো হয়েছে। আমেরিকার ইশারায় সৌদি গোয়েন্দা প্রধান হয়েছেন প্রিন্স বন্দর বিন সুলতান। তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।



সৌদি রাজা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদেও পরিবর্তন এনে সেখানে প্রিন্স মুহাম্মদ বিন নায়েফকে বসিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নায়েফও যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া করেছেন এবং মার্কিন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।



দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা বাহিনী-এ উভয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে পরিবর্তন এনে তুলনামূলক কম বয়সী প্রিন্সদের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। গত দেড় বছরে পরপর দুই জন যুবরাজ মারা যাওয়ার পর বুড়ো রাজপুত্রদের জায়গায় তুলনামূলক কম বয়সী প্রিন্স বা রাজপুত্রদের ক্ষমতায় বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া, ৯০ বছর বয়সী বর্তমান রাজা আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। এ নিয়েও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে আমেরিকা। কারণ ওয়াশিংটন এটা ভালো করেই জানে যে, সৌদি আরবের বর্তমান রাজা মারা গেলে দেশটিতে রাজপুত্রদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বেড়ে যাবে এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুন্ন হতে পারে। পাশাপাশি সেদেশে সামাজিক বৈষম্য ও অবিচারসহ রাজপরিবারের বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন এলাকার জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।



সব মিলিয়ে সৌদি আরবে যে কোনো সময় একটা বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে বলে আমেরিকা আশংকা করছে। মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমেরিকা সৌদি আরবে নিজের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে রাজ পরিবারের সহযোগিতায় গোয়েন্দা ততপরতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে মার্কিন আধিপত্য আরো বৃদ্ধির পদক্ষেপকে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক মহল ভালো চোখে দেখছে না।