কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ
মোনাজ হক , রবিবার, জানুয়ারি ১৩, ২০১৩


ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার ১০ টি উপায়

বিগত ১৫ দিন ধরে কনকনে ঠান্ডায় উত্তর অঞ্চলের মানুষ দের এই ভোগান্তি আর দুর্দশা আমরা টিভি পত্র পত্রিকায় দেখছি প্রতিনিয়ত।অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে ও এন জি ও রা তাদের সাধ্য মত সহাতার হাত বারিয়ে দিচ্ছেন এটাই নিয়ম, কিন্তু রাজনৈতিক নেতা দের টিভি কামেরার সামনে দাড়িয়ে কিছু কম্বল বিতরণের দৃশ্য আমাদের কে কি শিক্ষা দেয়? প্রাকৃতিক দুর্যোগ কে সম্বল করে কম্বল দেবার দৃশ আমাদের কে আর কত দিন দেখতে হবে? আপনারা দয়া করে জনগনের দুর্দশা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া বন্ধ করুন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি অবিলম্বে বেশ কিছু মেডিকেল কলেজের ডাক্তার ও ছাত্র দের কে যথেষ্ঠ ঔষধ সহ উত্তর অঞ্চলে পাটিয়ে দিন যথেষ্ঠ গরম কাপড় কম্বল ইত্যাদি সরবরাহ করুন প্রতিদিন গরম খাবারের বন্দোবস্ত করুন।উত্তরন্চলের জেলাগুলিতে যেখানে ৩ ডিগ্রী তাপমাত্রায় নেমে এসেছে সেসব অঞ্চলে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে আর্মি এর "ডেজাসটার ম্যানেজমেন্ট“ বাটালীয়ন কে পাঠান, কারণ জনগণ এর অর্থেই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী লালন করা হয়, আর জনগনের এই চরম দুর্দশায় তাদেরকে কান্টনমেন্ট এ বসে রাখার কোনো যৌতিকতা নাই।
জনগণ কে ইনফরমেশন দিন, কিভাবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে, যদি ইনফরমেশন এর ঘার্তি থাকে জেনে নিন কি ভাবে শীত প্রধান দেশের মানুষ ২০০ বছর আগে এই কনকনে শীতের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করত।তখন ঘড়ে ঘড়ে কোনো সেন্ট্রাল হিটিং এর ব্যবস্থা ছিল না কিন্তু মানুষ তাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছিল সেসব উদাহরণ থেকে আমাদেরকে নতুন ইনোভেশন এর চিন্তা করতে হবে, কারণ পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে প্রতি নিয়ত।এতে ভয় বা উদ্বেগ এর কারণ রয়েছে যথেষ্ট এবং জনগণ কি ভাবে সেই উদ্বেগ বা ক্রাইসিস মোকাবেলা করতে পারে তার সঠিক চিত্র তুলে ধরতে হবে এবং সেটা সরকারেরই কাজ, আমাদের এনভায়রনমেন্ট মিনিস্টার সারা বিশ্বের নেতাদেরকে বোঝাতে বাস্ত কিভাবে উন্নতিশীল দেশ গুলির আবহাওয়া দুশিতকরণের ফলে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই এবং বিশ্বের গ্লোবাল ফান্ড থেকে বাংলাদেশ তার অংশের ভাগ কিভাবে পাবে সেটা নিয়েই বেশি বাস্ত, কিন্তু নিজের দেশের জনগণ কে বোঝানোর জন্যে কোনো ইনফরমেশন পোর্টাল বা পুস্তলিকা আজ পর্যন্ত তৈরী করেছেন কি না আমার জানা নেই। তাই এই মুহুর্তে আবহাওয়া জনিত দুর্যোগ কে পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি করা টা কোনো পক্ষেরই উচিত নয়।

ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার ১০ টি উপায় (টিপস)

১) যদি সম্ভব হয় ৩ টি বস্ত্র পরিধান করুন প্রথমে গেঞ্জি যেটা শরীরের ৩৬ ডিগ্রী তাপমাত্রার নিসচিত করবে, তারপর সুতি জামা যেটা গেঞ্জি ও শরীরের তাপমাত্রার রক্ষক হিসাবে কাজ করবে আর পুলোভার বা জাকেট বাইরের হিমেল ঠান্ডা ঢুকতে প্রতিবন্ধক হিসাবে করবে।যদিও এভাবেই সবাই করেন কিন্তু তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন হলো ১ টি মোটা কাপড়ের চেয়ে ৩ টি কাপড় শরীরের "থার্মিক বালেন্স" রক্ষায় ভালো কাজ করে, আর মহিলারারা নিচে আঁটসাঁট পোশাক পরে শাড়ি পড়ুন। দুটো মোজা পায়ে দিন, তাতে প্রথমটা পায়ের উষ্ণতা বাইরে যেতে বাধাদেবে আর দিতীয়টা বাইরের তাপমাত্রা পায়ে ঢুকতে প্রতিবন্ধকতার কাজ করবে ।

২) আপনার চুল্লিটি, যদি সম্ভব হয়, বসার ঘরে বা শোয়ার ঘরে নিয়ে আসুন তাতে আপনার ঘরের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রী বাড়বে, খাবারের কাটাকাটি ধোওয়া মোছার কাজ রান্না ঘরে করুন শুধু চুল্লিতে রান্নার কাজটি বসার ঘরে বা শোয়ার ঘরে করুন।

৩) যদি লাকড়ির চুল্লিতে রান্না করেন আর চুল্লি সরানো সম্ভব না হয় তবে রান্নার পরে ছাই ও জলন্ত কয়লা একটি মাটির পাত্রে অথবা করাই এ ভরে নিয়ে আপনার চৌকি বা খাটের নিচে রাখুন, এতে ঘরের তাপমাত্রা বাড়বে। পাথর উষ্ণতাকে অনেক খুন ধরে রাখতে পারে তাই রান্নার সময় কিছু ইঁট পাথর চুল্লিতে ঢুকিয়ে রান্না করুন এবং তারপর সেগুলো ঘর গরম রাখার জন্যে ব্যবহার করুন ।

৪) দরজা জানালায় ফাঁক গুলি মাটি ও খর কুটোর কাদামিশ্রনের প্রলেপ দিয়ে বন্দ করুন, বাইরের হিমেল হওয়া ঘরে ঢোকার সব দুর্বল জায়গা গুলো বন্দ করুন ছেঁড়া কাপড় দিয়ে।

৫) বাতাসের ধর্ম হলো: গরম বাতাস উপরে যায় আর ঠান্ডা বাতাস নিচে নামে, তাই আপনার চৌকি অথবা খাটটির পায়ের নিচে ২ টি করে ইট দিয়ে খাটটিকে ২০ সেনটিমিটার উচু করুন, যাদের চৌকি অথবা খাট নেই তারা সরাসরি মাটিতে না শুয়ে, খড় বিছিয়ে বা খবরের কাগজ বিছিয়ে তারপর কাঁথা বা তোষক বিছাবেন।

৬) বেশি লোকজন এক ঘরে থাকলে বাতাসের সঞ্চালন বেশি হবে ও ঘর গরম থাকবে।

৭) আপনার তোষক অথবা মাট্রেস এর নিচে খড় (সিম্পল ধানের খড় ৫ সেনটিমিটার পুরু) বিছিয়ে দেবেন আপনার বিছানা অনেক গরম থাকবে অথবা চাদরের নিচে সিম্পল খবরের কাগজ বিছিয়ে দেবেন, খবরের কাগজ ভালো ইসোলাসন এর কাজ করে, ফোম (Styrofoam) একটি ভাল অন্তরক (isolator) কারণ ফোম এর মধ্যে প্লাস্টিকের ফেনায় আটকে রাখা গ্যাস বুদবুদ রয়েছে, যেটা তাপমাত্রা প্রতিরোধ করে।

৮) খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন সুপ (ডাল জাতীয় তরল খাবার) থাকতে হবে, ডাল, সবজি এবং সম্ভব হলে গরুর মাংসের ছোট ছোট টুকরো দিয়ে সুপ তৈরী করুন, সুপ অনেকখন শরীর গরম রাখে।

৯) সুর্য আমাদের বিশ্বজগৎ কে সবচেয়ে বেশি এনার্জি দেয় সূর্যকে আমরা প্রতি নিয়ত ব্যবহার করি নিজের অজান্তেই, কাপড় সুখানো, ধান সুখানো ফলমূল সুখানো এছাড়াও আমাদের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্যে, যদিও শীতের মুওসুমে সূর্যের দেখা মেলে কম তবুও যখন সুর্যের দেখা মেলে তখনি আমাদেরকে তাকে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে হবে, যেমন সুর্যের আলো ঘরের ভেতর প্রবেশ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

১0) সৌরশক্তির বৈগানিক ব্যবহার আজকাল আমাদের দেশেও বাড়ছে সাধারণ মানুষ সুর্য কে বৈগানিক ভিত্তিতে না পারলেও নিজের মতন করেই ব্যবহার করতে পারেন, যেমন কাঁচের বন্দ জানালা দিয়ে আলো ঢুকে ঘর কে গরম রাখতে পারে, সৌর শোষক (sola absorver) রাবারের কালো পাইপ দিয়েও পানিকে ৭০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় গরম করা যায়, শীতের দিনেও এটা সম্ভব (যদি রোদ্রুর থাকে) সেই ৭০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় গরম করা জল ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার ব্যবস্থা করতে হবে (থার্মো-ডাইনামিক: কারনট সাইকেল) ।


Last but not least: ঠান্ডা আবহাওয়ায় কম্বল গায়ে হাত গুটিয়ে শুধু আগুন পোহালে হয়ত ঘন্টা খানেক শরীর গরম হবে বটে, কিন্তু ২৪ ঘন্টায় দিন হয় তাই আমাদেরকে যথেষ্ঠ ছুটা ছুটি কাজকর্ম করে নিজের শরীর গরম রাখতে হবে,এবং নতুন ইনোভেশন এর চিন্তা করতে হবে।কিচেন এর রান্নাকরার গরম তাপমাত্রা শোয়ার ঘরে বা বসার ঘরে ঢোকানো যায় তার বৈজ্ঞানিক সমাধান দিতে হবে, এতে কোনো বড় পুঁজির দরকার হয় না টিনের পাইপ তৈরী করে কিচেন এর গরম বাতাস কে বসার ঘরে বা শোয়ার ঘরে সঞ্চালন করা অতি সাধারণ একটা পদ্ধতি, সৌরশক্তির দৈনন্দিন ব্যবহার সম্পর্কে এর পরবর্তী নিবন্ধ তে বিস্তারিত লেখার আশা রেখে আজ এখানেই শেষ।

যোগাযোগ: haque@berlin.com
লেখক একজন জার্মান প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার ও সাংবাদিক www.asiatoday.fr