আসিফ আবরার 'এর পাঁচটি কবিতা
আসিফ আবরার, রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১২



ধিকধিক আলো জ্বলে ওঠে


ধিকধিক আলো জ্বলে ওঠে
তোর অন্দরে, কোমরে বলনাচ। ঝাড়বাতি। উৎসব।
আমি জানি ওটা পুরুষের চোখ।
তোকে চেটে খায়, নগ্ন করে,
বেশ্যার হালখাতা খুলে বসে বাজারে বাজারে।

ধিকধিক আলো জ্বলে ওঠে
তোর কালো গাউনে অন্ধকার নামে
আধখানা চাঁদের মতো স্তন জ্বলে ওঠে
মদের বোতল ছেড়ে ওরা তাকায়
এর চাইতে সুপুষ্ট বোতল ওরা দেখেনি কখোনো।

পুরুষের চোখ দিয়ে আমি পুরুষ চিনেছি
উপভোগের সুর ধরে ওরা সম্ভোগ করে।

রাত হলেই ধিকধিক আলো জ্বলে ওঠে
ওরা তোর আলো নিভিয়ে দিতে অন্ধকার নিয়ে আসে!


-আসিফ আবরার
১৪/০৯/১২

নিস্তব্ধতা

তারপর তুমি হাতে...না! বাঁ হাতে,
অনামিকা সংলগ্ন আংটির উজ্জ্বলতা নিয়ে
আমার বেদনাকে স্পর্শ করে বললে
"ইশ! কি সুন্দর! কি সুন্দর!"

আমি বেদনাকে নগ্ন করে সুনীল কবিতা বানাই
তাই আমি বললাম...

নাহ! আমি কিছুই বলিনি সেদিন!


-আসিফ আবরার
১৪/০৯/১২


সে যদি হঠাৎ চলে আসে

আমি যার দেয়ালের আধপোড়া সন্ধ্যায় বসে আছি
সেও কি আমার জন্যে অপেক্ষা করে?
চুল আঁচড়ায়? বারান্দার চোখে সবুজ শাড়ি মেলে দেয়?

সেও কি রিকশায় আধখানা জায়গা ছেড়ে বসে?
"ইশ! সে যদি হঠাৎ চলে আসে!"

-আসিফ আবরার
১৪/০৯/১২

শরবিদ্ধ

কবিতার পদপ্রান্তে চুমু খাই
তাকে রমণী বানাই!
আঙুলে ও নখে আমি ফোটাচ্ছি ফুল
পাখি তাকে ভুল করে দিলি!

-আসিফ আবরার
১৪/০৯/১২

বৃষ্টি চায়

বৃষ্টি তোকে ফোন দিচ্ছিলো, তুই ধরলি না!
বৃষ্টির খুব বেশি দাবি ছিল না।
বৃষ্টি চায় তুই আষাঢ় আর শ্রাবনের পার্থক্য বোঝ, সালোয়ার ছেড়ে একটা নীল শাড়ি পর। তোর চুল ছেড়ে দিলে যেন ঠিক কাঁঠালচাঁপার গন্ধ বেরোয়।
বৃষ্টি চায় তুই কপালে একটা টিপ দে। দরজার কাছে এসে আবার ফিরে যা। ভুল টিপটা দু'বার ঠিক করে নে।
আর কি চায় বৃষ্টি?
বৃষ্টি চায় তোর চোখের কাজলে
একজন কবি যেন ভেসে যায় তার কবিতা-শুদ্ধ জলে!


-আসিফ আবরার
১৪/০৯/১২