চলচ্চিত্র 'জিহাদ উইদাউট বর্ডার' ও পরিচালক শাহরিয়ার কবির।
Shawkat Ripon, সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১২


বরেণ্য সাংবাদিক,চলচ্চিত্র নির্মাতা,লেখক,সংগঠক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রাণপুরুষ শাহরিয়ার কবির তাঁর জিহাদ নিয়ে নির্মিত ট্রিলজি তথ্যচিত্রের দ্বিতীয় পর্ব 'জিহাদ উইথাউট বর্ডার' নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। গত রবিবারে জ্যামাইকায় অবস্থিত আহমদীয়া মুসলীম সেন্টার এ তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয় ।

কিভাবে সেক্যুলার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌'র হাত ধরে ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা হয়,কি করে জিন্নাহ্‌'র অকাল মৃত্যুর পরে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বিস্তার লাভ করে,বিকারগ্রস্ত ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানকে প্রতিষ্ঠার পিছনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মওলানা মওদুদী'র ভূমিকা,সূফীবাদ'এর উপর ইসলামী জঙ্গীদের হামলার কারন, আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্ছিত রেখে কেবলমাত্র ইসলামী শিক্ষার নামে নারী শিশু সহ সকল স্তরে জঙ্গীবাদের বিস্তার কি করে করা হচ্ছে,আহমদীয়া বা কাদিয়ানী মুসলিমদের উপর আক্রমন-ধ্বংস-রক্তপাত ও অমুসলিম ঘোষনা সহ আরো অসংখ্য দিক খুবই দৃঢ়তার সাথে 'জিহাদ উইথাউট বর্ডার' চলচ্চিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। একই সাথে রাজনীতিবিদ,আইনজীবি,নৃত্যশিল্পী, সাংবাদিক,কবি,বিপণন কর্মী,শিক্ষার্থী সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মাঝে যে জিহাদের নামে নারকীয় তান্ডবের বিরুদ্ধে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ বিরাজ করছে তা তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির বেশ উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হলো সাইদ হায়দার ফারুক মওদুদী'র সাক্ষাৎকার যিনি পরিচয়ে জামায়াতে ইসলামি'র স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা মওলানা আবুল আলা মওদুদীর পুত্র। পুত্র হয়েও পিতার ভ্রান্ত পথের বলিষ্ঠ সমালোচনা করেছেন এবং ধর্মের নামে জামায়াতে ইসলামী যে জঙ্গীবাদ উস্কে দিচ্ছে ও সমর্থন করছে এবং পৃষ্ঠপোষকতা করছে তা তিনি প্রকাশ করেছেন।

প্রদর্শনী শেষের পরেই পরিচালক শাহরিয়ার কবির দর্শকের সাথে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহন করেন। 'পাকিস্তানে এই ছবিটি দেখানো হয়েছে কিনা এবং দেখানো হয়ে থাকলে তার প্রভাব কেমন হয়েছিলো ?'- প্রশ্নের উত্তরে শাহরিয়ার কবীর বলেন-চলচ্চিত্রটি সীমিত আকারে পাকিস্তানে প্রদর্শিত হয়েছে। তবে যাদের মাঝে প্রদর্শিত হয়েছে তারা চলচ্চিত্রের বক্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করেছেন। 'সেক্যুলারিজ্‌ম বলতে ধর্মনিরপেক্ষতা নাকি নাস্তিকতা বোঝানো হয়?'-প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন- ভারত উপমহাদেশে সেক্যুলারিজ্‌ম বলতে ধর্মনিরপেক্ষতা'কেই বোঝানো হয়ে থাকে। অবসরপ্রাপ্ত একজন আমেরিকান স্কুল শিক্ষিকা প্রশ্ন করেন-'আমরা শুনেছি পাকিস্তানে এবং বাংলাদেশে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের ঘৃণা করতে শেখানো হয়। ব্যাপারটা কতটুকু সত্য ? উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন- উভয় দেশেই দুই ধরনের শিক্ষা ব্যাবস্থা রয়েছে।একটি হল সাধারণ শিক্ষা ব্যাবস্থা-যেখানে গনিত,বিজ্ঞান,সমাজ,সাহিত্য,ধর্ম সহ সকল বিষয়ে পড়ানো হয়। আর অন্যটি হলো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থা-যেখানে কেবলমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয় এবং পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ জাগানো হয়। আশার কথা হচ্ছে,বাংলাদেশ সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থায় অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে বলে তিনি জানান। অন্য আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি 'জিহাদ উইথাউট বর্ডার' ছবিটি বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন চ্যানেলে প্রদর্শনের আশাবাদ ব্যাক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে ইউটিউব'এ দেখার ব্যাবস্থা থাকার কথাও জানান। তবে একই সাথে আইএসআই এর প্রভাবের কারনে পাকিস্তানের কোন চ্যানেলে প্রচারিত হবার সম্ভাবনা না থাকার কথাও জানান।

ওয়াশিংটন,নিউ জার্সি সহ বেশ কয়েকটি স্থানে 'জিহাদ উইথাউট বর্ডার' চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে। উল্লেখ্য যে, জিহাদ ট্রিলজির প্রথম পর্ব 'রাইজিং অফ জিহাদ' ২০০৯-২০১০ সালে প্রদর্শিত হয়েছে এবং তৃতীয় ও শেষ পর্ব 'আলটিমেট জিহাদ' নির্মানের কাজ ৮০% শেষ হয়েছে এবং আগামী মার্চ'২০১৩ তে প্রদর্শিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্মীয়মান চলচ্চিত্রটির সমাপ্তীতে তিনি সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।