একজন সাধারন মানুষের চিঠি
সুবর্ণা গোস্বামী, শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১২


প্রিয় বিশ্বজিৎ ,তোমার প্রতি আমার শোক প্রকাশ অনেকটাই বিলম্বিত ,
কেননা নিরাপদ দূরত্ব থেকে তোমার মৃত্যু ক্যামেরাবন্দী করে -
আপন বলয়ে ফিরে আসতে বেশ খানিকটা সময় লেগেছে আমার।
এই প্রতিরক্ষা বলয়ের শান্তি ভেদ করে আমার ভালবাসা ,
তোমার শহীদ শোণিতের ধারা ছোঁবে কিনা, জানিনা।

শুধু তুমিই বা বলি কেন,কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানির মৃতদেহ ,
মৃত শাজনীন এর অপাপবিদ্ধ মুখমণ্ডল ,
অথবা ধর্ষিতা অনামিকার অসহ্য লাল শাড়ি ,
সবই আমার কামেরায় ধারণ করে আয়েস করে দেখি,
সোফায় পা তুলে,কফি মগ হাতে,ফুলের গন্ধ নিতে নিতে ।
এর আগে কিছুতেই দেখা হয়ে উঠেনা তোমাদের রক্তে ভেজা শরীর,
শোনা হয়ে ওঠেনা তোমাদের বাঁধ ভাঙ্গা আর্তনাদ।

তোমাদের সৎকারের পূর্বেই নিশ্চিত হয়ে নিতে হয় যেন,
তোমাদের চিতা আমার কেশাগ্র স্পর্শ করতে না পারে।
আমি খুব নির্ভেজাল ভাল, সাধারন মানুষ একজন।

কিন্তু সবিস্ময়ে দেখি আমারই ধারণকৃত কামেরায়,
খুনি আমি ,ধর্ষক আমি অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসীও আমিই,

আমি নির্বিকার থেকে ফেলানির লাশকে আরও কয়েকদিন-
শুন্যে ঝুলিয়ে দৃশ্যের মাধুরী উপভোগে মাতি ,
আমি নির্বিকার থেকে বিশ্বজিৎ ,তোমার লাশের উপরে,
আমার অসহায়ত্বের নির্মম আঘাত হানি।
আমি নির্বিকার থেকে অনামিকা তোমাকে-
সর্ব সম্মুখে আরও একবার ধর্ষণ করি।

আমাকে করোনা ক্ষমা কখনওই তোমরা,
শাস্তি আমারও প্রাপ্য, বিবেকের ন্যায়দণ্ডে।