নিউইয়র্কে নাট্যকর্মীদের স্মৃতিচারণে উঠে এলো যুবরাজের অনিন্দ্য সুন্দর সৃষ্টিশীল জীবনের কথা
শহীদুল ইসলাম, শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৩


খালেদ খান যুবরাজ। নাটককে ঘিরে ছিল তার বর্ণাঢ্য পথচলা। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। কিন্তু তিনি রয়ে গেছেন তার সৃষ্টিশীলতার মাঝে। তার চিরবিদায়ে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সবাই যেমন শোকে মুহ্যমান, একইভাবে শোকগাঁথা মুহূর্ত পার করছেন নিউইয়র্কের নাট্য কর্মীরাও। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে তারা গভীরচিত্তে স্মরণ করলেন এই নাট্যশিল্পী ও নির্দেশককে। তাদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে যুবরাজের অনিন্দ্য সুন্দর সৃষ্টিশীল জীবনের কথা।
খালেদ খানকে নিবেদিত আলোচনা ও সঙ্গীত পরিবেশনায় সাজানো হয় এ স্মরণানুষ্ঠান। যৌথভাবে এ স্মরণসভার আয়োজন করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকা, ড্রামা সার্কল, ঢাকা ড্রামা, বাংলা নাট্যদল, মেট্রো ঘিয়েটার এবং ঢাকার নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল।
জ্যাকসন হাইটসের ফুড কোর্ট রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় নিউইয়র্কের নাট্যকর্মীরা ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিপ্রেমী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানান অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন।
এরপর খালেদ খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর গান, আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সউদ চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনেরে সাবেক মহাব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বাদশাহ, নাট্যাভিনেত্রী রেখা আহমেদ, নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ মুজিব বিন হক, ফারুক আজম, শিরিন রহমান, জিএইচ আরজু, মিথুন আহমেদ, শারমীন মহসীন, রানা ফেরদৌস, আবীর আলমগীর, স্বপ্না কাওসার, শ্যামা হাই, সেমন্তী ওয়াহেদ ও লিটন ফিলিপস। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নাট্যাভিনেত্রী রওশন আরা হোসেন।
শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণে বক্তারা বলেন, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ঈষা নাটকে খালেদ খান যে শিখরস্পর্শী অভিনয় করেন তা সত্যিকার অর্থেই ঈর্ষণীয়। মঞ্চে তাঁর অভিনয়ের পারঙ্গমতা অনতিক্রময়। একইসঙ্গে একজন অভিনেতা ও নির্দেশক হিসেবে তিনি ছিলেন সমানভাবে সফল। তাই অকালে বিদায় নেয়া এই নাট্যশিল্পীর জীবনটা যেন পূর্ণাঙ্গ শিল্পীর অপূর্ণ জীবন। এর মাঝে তিনি অভিনয় শিল্পে পূর্ণতা পেয়েছেন। কিন্তু তা খুবই স্বল্প সময়ের জন্য। তাঁর কাছ থেকে নতুন প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। রয়েছে অনুপ্রেরণা নেয়ার উপাদান।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, নিজ গুণেই খালেদ খান নাট্যাঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মনে বিশাল একটা ভালোবাসার জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁকে নিয়ে নাট্যকর্মী এবং সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের মাঝে যে ভালোবাসা বিরাজ করছে, এটা যদি তিনি এখন দেখতে পেতেন তাহলে হয়তো পূণর্জন্ম পেতে চাইতেন।
স্বাগত বক্তব্যে নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন খালেদ খান যুবরাজকে একজন বাচিক অভিনয় শিল্পী আখ্যায়িত করে বলেন, যুবরাজের অভিনয় দক্ষতা নাট্যাঙ্গনে ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছিল। দর্শক দারুন মুগ্ধ হতো তার অভিনয় দেখে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসান, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ ও মনজুর আহমেদ, সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ, লেখক ও কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, নারী নেত্রী অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, সাপ্তাহিক আজকালের প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট আকবর হায়দার কিরণ, তৈয়বুর রহমান টনি, এবিএম সালেহ আহমেদ প্রমূখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ফারুক ফয়সাল ও সুমি। অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী ছিলেন সীতেশ ধর। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতা করেছেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শাহাদাত হোসেন ও শিমুল।