বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে নিউইয়র্কে মানববন্ধন
এইদেশ ডেস্ক, সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৪


বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি আমেরিকানরা। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় সময় রবিবার নিউইয়র্কে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে দীর্ঘসময় তারা সেখানে অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রতিবাদ জানান।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয় এই বিক্ষোভ সমাবেশে।
এক ঘোষণাপত্রে বলা হয়, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। সাংবিধানিকভাবে সেখানে সকল ধর্ম ও ধর্মালম্বী মানুষের সমান অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আজ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিকভাবে সমমর্যাদা নেই। উপরন্তু তাদের ওপর ক্রমাগতভাবে নির্যাতন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে যে কোনো ধরনের নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এই নির্যাতনের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর জামায়াত-বিএনপির দুর্বৃত্তরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। উপসনালয় জ্বালিয়ে দেয়। ধর্ষণ ও হত্যা করে তাদের ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। নির্বাচনে ভোট দেয়া সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তারা সেই সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে বারবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অথচ নির্বাচন কমিশন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হচ্ছে না এবং দুর্বৃত্তদের কোন বিচার ও শাস্তি এখনও দৃশ্যমান নয়। ফলে দুর্বৃত্তদের আক্রমণ এখনো অব্যহত রয়েছে। এতে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের নির্যাতনকারী এবং সভ্যতার শত্রু এই অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে না পারলে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রক্ষা করা যাবে না।
সমাবেশে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো, ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময় দেশের সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের হোতা ও সহযোগীদের 'হেট ক্রাইম' আইনের আওতায় বিচার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদান, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ওপর 'শাহাবুদ্দিন কমিশনের' রিপোর্টের ভিত্তিতে বিচার করে শাস্তি প্রদান, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে ও পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে সকল সন্ত্রাসী হামলা সংগঠিত হয়েছে তার 'বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন' গঠন করে দোষীদের সন্ত্রাস দমন আইনে দ্রুত বিচার করা, সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিকভাবে চলা নির্যাতন স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য 'সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে ও পরে এযাবত্ যে সকল মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপসনালয় ধ্বংস করা হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা এবং সাংবিধানিক অধিকার হিসাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিরাপত্তা বিধান করা।
মানববন্ধনে অংশ নেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, মানবাধিকার নেতা রতন বড়ুয়া, আয়োজক ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, শরাফ সরকার, চলচ্চিত্র পরিচালক কবীর আনোয়ার, আব্দুর রহিম বাদশা, চন্দন দত্ত, সুব্রত বিশ্বাস, সীতেশ ধর, জিএইজ আরজু, অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, অধ্যাপিকা রানা ফেরদৌসী, শীতাংশু গুহ, বিশ্বজিত্ সাহা, জলি কর, কিবরিয়া অনু, মহিউদ্দিন দেওয়ান, নূরে আলম জিকু, শাহীন আজমল, মুজাহিদ আনসারী, দরুদ মিয়া রনেল প্রমুখ।